
মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন
নাসা গ্রুপের নজরুলের ৭৮১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ
- আপলোড সময় : ১৭-০২-২০২৫ ০৩:৩২:১২ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-০২-২০২৫ ০৩:৩২:১২ অপরাহ্ন


৭৮১ কোটি ৩১ লাখ ২২ হাজার ৪৫৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নাসা গ্রুপের কর্ণধার ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত রোববার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ অভিযোগে নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসাধু উপায়ে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ৭৮১ কোটি ৩১ লাখ ২২ হাজার ৪৫৪ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, নজরুল ইসলাম মজুমদার বেসরকারি এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে তাকে সরিয়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া প্রায় দেড় দশক ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ৫ আগস্টের পর তাকে এ দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেফতার হন তিনি।
সিআইডি জানায়, নাসা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ফিরোজা গার্মেন্টস লিমিটেড ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ১৩০টি এলসি বা বিক্রয় চুক্তি গ্রহণ করে। কিন্তু এর বিপরীতে নাসা গ্রুপ পণ্য পাঠালেও এর রফতানি মূল্য প্রায় ৩০ লাখ ডলার বাংলাদেশে না এনে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে সিআইডি। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে অর্থপাচারে করে লন্ডনের ফিলিমোর গার্ডেন ও ব্রান্সউইক গার্ডেনে তার মেয়ে আনিকা ইসলামের নামে বাড়ি কিনেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে নজরুল ইসলাম মজুমদার নাসা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বন্ড সুবিধার আওতায় বিদেশ থেকে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল এনে তা খোলাবাজারে বিক্রি করে শত শত কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দিয়েছেন।
নাসা গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট চারটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে আমদানি ও রফতানির আড়ালে (আন্ডার ইনভয়েসিং এবং ওভার ইনভয়েসিং) দুবাই, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে অর্থপাচারের অভিযোগে নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম, সিআইডিতে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ